জেনে নিন অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায় 2026

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুরা, কেমন আছ বন্ধুরা ? আমি ভালো আছি তবে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক সমস্যা থাকায় নতুন আরেকটি পোস্ট আনতে দেরি হলো।

কোনটা আসল চার্জার আর কোনটা নকল চার্জার অথবা অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায় কি আর সেটা কিভাবে চিনবেন? এই বিষয়টি আমি এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো, এর পাশাপাশি আরও বলবো যে কি দেখে চার্জার কিনবেন বা যে যে বিষয়ে চার্জার কিনার সময় সতর্ক থাকবেন। সতর্ক না হলে চার্জারের জন্য স্মার্টফোনটাই নষ্ট হয়ে জেতে পারে । তাই এই পোস্ট টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

১/ ওজন বা ওয়েট পরিমাপ করে অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়
হাতে চার্জারের ওজন মাপা র ছবি

আপনি চার্জার কেনার সময় চার্জারের ওজন যাচায় করে নিবেন। আসল যে চার্জার থাকে আসলেই সেটাতে যে অরজিনাল পার্টস গুলা থাকে বা সিকিউরিটি জনিত অনেক পার্টস থাকে যে কারণে অরজিনাল চার্জারটা খুব ভারী হয়। যখন আপনি নকল চার্জারটা দেখবেন তখন সেই চার্জারটা এত পার্টস থাকে বা আর সিকিউরিটি পার্টস থাকে না।

সেই কারণে নকল চার্জারটা খুব বেশি ভারী হয়না সেটা খুব বেশি পাতলা হয়ে থাকে। কিন্তু সেই ভারী আর পাতলা বিষয়টাকে সমাধান করার জন্য একটা ভিডিও দেখেছি আমি। ভিডিওতে দেখলাম যে নকল চার্জার আর আসল চার্জারের ওজন এক রকম করার জন্য চার্জারের ভিতরের দিকে এক ধরনের ক্লে দিয়ে ওজনটা এক করেছে।

এটাও অবশ্য এখন মুশকিল। তবে বেশিরভাগ 90% চার্জারই ওজনের একটা তারতম্য পাবেন আপনি। আপনার যে অরজিনাল চার্জার ছিল সেটার ওজন যতখানি কিন্তু যখন এই চার্জারটা আপনি কিনতে যাবেন তখন দেখবেন সেটা হালকা তখন বুঝে নিবেন যে সেটা নকল। এভাবে ওজন বা ওয়েট দেখে আসল চার্জার আর নকল চার্জার কিভাবে চিনবেন।

২/ ব্র্যান্ড লোগো টেক্সট দেখে চেনার উপায়

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

ব্র্যান্ড লোগো এবং টেক্সট প্রত্যেকটা চার্জারের মধ্যে দেখবেন যে এই লোগো দেওয়া রয়েছে এবং বিভিন্ন টেক্সট রয়েছে এখানে স্পেসিফিকেশন রয়েছে আরো অনেক কিছু রয়েছে কিন্তু আপনারা ভালোভাবে একটু খেয়াল করে দেখবেন যে এখানে একটা সুক্ষ জিনিস দেখতে পাবেন যেখানে লোগোটা আছে বা টেক্সটগুলো আছে সে টেক্সটগুলোর ফিনিশিং কিন্তু খুব ভাল যেটা অরজিনাল এবং এইটার কালারটা অনেক গাড়ো না।

যখন আপনারা হাত দিয়ে স্পর্শ করবেন তখন কিন্তু এরকম লাগবে না। তবে হ্যাঁ অনেক বেশি গাড়ো না কিন্তু আবার এই যে ছোট করে টেক্সটগুলো দেওয়া এখানে টোটাল স্পেসিফিকেশনটা দেওয়া থাকে কত ভোল্ট আছে কত এম্পিয়ার আছে ঠিক কি কি সিকিউরিটি ফিচার আছে এইগুলো দেখবেন খুব ছোট হলেও সুন্দর করে দেওয়া আছে এইটা আপনারা আপনাদের স্মার্টফোনের ক্যামেরাটা অন করে এত ছোট থাকে যে নরমালি দেখার যায় না

আপনারা শুধু একটা ছবি তুলে তারপর সেই ছবির উপর জুম করে দেখবেন ফিনিশিংটা কেমন। অফকোর্স ফিনিশিংটা ভালো হবে যদি চার্জারটি অরজিনাল হয়। আর যদি অরজিনাল না হয় তাহলে আপনারা দেখবেন যে কালারটা অনেক বেশি গাড়ো হয়ে যাচ্ছে বা অনেক বেশি ডিপ হয়ে যাচ্ছে এই বিষয়টা কিন্তু অরজিনাল চার্জারে এরকম হয়না। অরজিনাল চার্জার একটু হালকা থাকে এবং যেগুলো টেক্সট বসায় সেগুলো কিন্তু একদম পারফেক্টলি থাকে। শুধু এইটা দেখে আপনি কিন্তু একটা অনুমান করতে পারবেন যে এইটা আসল চার্জার নাকি নকল চার্জার।

৩/ চার্জারের ফিনিসিং দেখে চেনার উপায়

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

আপনি যখন অরজিনাল চার্জার হাতে নিবেন তখন দেখবেন এটার ফিনিশিংটাই অন্যরকম তারমানে পেছনের যে অংশটা আছে এটাতে যদি খেয়াল করেন থলে দেখবেন খুব সুন্দর ভাবে একটা ফিনিশিং আছে বা পুরো যদি প্লাস্টিকটা হয় হ্যাঁ তারমানে উপরের যে কভারটা সেটার মধ্যে পুরো ফিনিশিংটা খুব ভালো পাবেন আবার চার্জারটা যখন নকল হবে তখন কিন্তু এরকম ভালো সুন্দর ফিনিশিং আপনি মোটেও দেখবেন না। এই যে দুইটা পিন আছে এই দুইটা পিনের মধ্যেও আপনি খেয়াল করবেন যে খুব ভালো একটা ফিনিশিং আছে।

যদি আপনি দেখেন যে ফিনিশিংটা ততটা ভালো না তখন আপনি বুঝবেন যে চার্জারটা নকল। কারণ নকল চার্জারে তো তারা একদম অরজিনালের মতো পুরো এফোর্ট দিয়ে করবে না। করলে তো তাদের প্রাইসটা বেড়ে যাবে। তারা অবভিয়াসলি চেষ্টা করবে যে অন্তত অরজিনাল চার্জারটা তৈরি করতে যে খরচ হয় তার তিন ভাগের এক ভাগ খরচ যেন তাদের নকল চার্জারে হয়। সো সেই ক্ষেত্রে তাতে এটার ফিনিশিং এত ভালো আসবে না। আপনি শুধু বডিটা দেখবেন যে

আর আপনি পিনগুলো দেখবেন আপনিও পেছনের ইউএসবি যেটা আছে এইটা দেখবেন এগুলো দেখবেন বেশি বড় না আপনি এখানে যখন কোনো একটা ইউএসবি পোর্ট লাগাবেন দেখবেন যে পুরোটা কিন্তু লেগে গেছে সুন্দর করে। অনেক বেশি বের হয়ে আছে বা অনেক বেশি ভিতরে ঢুকে গেছে বিষয়টা সেরকম না। But অরজিনাল হলে আপনি দেখবেন যে ইউএসবির জায়গাটাও সমস্যা থাকবে। তাহলে এগুলো দেখেও আপনি বুঝতে পারবেন যে চার্জারটা কি আসল নাকি নকল চার্জার।

৪/ চার্জার মডেল নাম্বার দিয়ে চেক করে চেনার উপায়

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

আপনি অবশ্যই চেক করবেন যে আপনার চার্জারটা আসল নাকি নকল সেটা চেক করার জন্য আপনি এই যে চার্জারে দেখেন খুব ছোট করে টেক্সটগুলো দেওয়া আছে। এখানে চার্জারের মডেল নাম্বারটা কিন্তু আপনি পেয়ে যাবেন। এখানে আপনি সিরিয়াল নাম্বারও পেয়ে যাবেন। শুধু ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি যাচাই করতে পারেন। তবে এই সুবিধাটা কিন্তু সব কোম্পানি দেয় না। যেমন Xiaomi, বাসুস দেয়, এন কার্ড দেয়, ইউক্রন দেয় আরো হয়তো থাকতে পারে কিন্তু এ কয়েকটা আমার মাথায় আছে তাদের ওয়েবসাইটে গেলেই কিন্তু আপনি দেখতে পাবেন এবং ওখান থেকে আপনি যাচাই করতে পারবেন আপনার চার্জারটা আসল নাকি নকল।

৫/ চার্জার মডেল নাম্বার এর মিল দেখে চেনার উপায়

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

আপনি যখন চার্জার কিনবেন তখন একটা প্যাকেট আছে চার্জারের সেইনকাম প্যাকেটের গায়ে সিরিয়াল নাম্বার বা মডেল নাম্বার বা অনেক কিছু লেখা থাকে সেইটার সাথে এটা মিলে কিনা একটু ভালো করে চেক করে নিবেন মানে ভিতরের যে স্পেসিফিকেশনটা দেওয়া আছে অথবা মডেল নাম্বার বা সিরিয়াল নাম্বার দেওয়া আছে সেটার সাথে আর গায়ে যেটা দেওয়া আছে সেটা মিলে কিনা, কারণ নকল চার্জারের ক্ষেত্রে এত কেয়ারফুলি আসলে তৈরি করা হয় না, যে কারনে ম্যাক্সিমাম সময় কিন্তু মিলে না, তখন আপনি বুঝবেন যে এইটা আসল নাম্বার নকল চার্জার।

আবার আরেকটা বিষয় বলে দিই, যেমন অরজিনাল যে চার্জার আছে সেটার মধ্যে কিন্তু ব্র্যান্ডের লোগোটা বা নামটা দেওয়া থাকবে। যেমন Samsung এই যে Samsung দেওয়া আছে এবং খুব সুন্দর করে দেওয়া আছে, কিন্তু নকলটাতে এই Samsung এর জায়গায় Shamsuddin দেওয়া থাকতে পারে কিছু জায়গায় আপনারা দেখছেন এরকম একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে , যে Samsung এর জায়গায় Shamsuddin লিখেছে কিন্তু মনে হচ্ছে যে Samsung লিখেছে। এরকম কিছু পরিবর্তন থাকতে পারে,তখন আপনি বুঝবেন যে এটা নকল চার্জার। আপনারা কিভাবে Samsung এবং Shamsuddin লিখাটা চিনতে পারবেন তার জন্য আমি একটা ছবি দিয়ে দিলাম যেটা দেখে আপনারা চিনতে পারেন।

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

৬/ দাম বা প্রাইজ দেখে অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

অরিজিনাল চার্জার চেনার উপায়

আপনি যে চার্জারটা কিনতে যাচ্ছেন বা আপনার স্মার্টফোনের জন্য যে চার্জারটা কিনতে যাচ্ছেন সেটার প্রাইস কত? আপনি শুধু একটা আইডিয়া ওয়েবসাইট থেকে নিয়ে যাবেন। যখন আপনি চার্জারটা কিনতে যান তখন একটা দুইটা বা তিনটা যে বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট আছে সেখান থেকে আসল প্রাইসটা নিয়ে তারপর আপনি যেতে পারেন অথবা ওয়েবসাইট থেকে কিনলেও আপনি দেখতে পারেন যে প্রাইজের পার্থক্য কমে না,যদি দেখেন যে প্রাইজের পার্থক্য আছে অনেক যেমন অরজিনাল চার্জারের এক দাম ধরেন 2000 টাকা,সেটা আপনি পাচ্ছেন 1500 টাকা,তখন আপনাকে বুঝতে হবে যে এটা অরজিনাল নাও হতে পারে কারন অরজিনাল যে চার্জার সেটা 2000 টাকায় সব টাস্টেবল ওয়েবসাইটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে সেখানে হয়তো বা 50 টাকায় বা 100 টাকা ডিফারেন্স হতে পারে,কিন্তু 500 টাকার ডিফারেন্স হলে এখানে আপনাকে অবশ্যই একটু সন্দেহ করতে হবে।

চার্জার কিনার আগে যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখা জরুরী ।

এতোক্ষন তো চার্জারের আসল আর নকল নিয়ে কথা বললাম । এখন চলুন জানি জে একটি চার্জার কিনার সময় কোন কোন বিষয় গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

  • অরিজিনাল দোকান থকে কিনতে হবে।

যখন আপনি চার্জার কিনতে জাবেন তখন রাস্তার ফুটপাত থেকে না কিনে নিকটস্থ বিশ্বস্ত দোকান বা শো রুম থেকে কিনবেন। আর যদি চান যে অনলাইনে চার্জার কিনবেন তবে অবশ্যই বিশ্বাস যগ্য ওয়েব সাইট থেকে কিনবেন।

  • চার্জার ভোল্ট এবং mah দেখে কিনতে হবে।

চার্জার কিনার সময় চারজারে ভোল্ট আম্পিয়ার সব ঠিক ঠাক আছে কিনা তা ভালো করে যাচাই করে নিবেন। কারন আপনার ফোনের সাথে থাকা আসল চার্জার টি হারিয়ে গেছে অথবা নষ্ট হয়ে গেছে বলেই কিন্তু আপনি এই নতুন চার্জার টি কিনতে গেছেন। চার্জার কিনার আগে চার্জারের মডেল নাম্বার দিয়ে গুগলে খোঁজ করলেই কিন্তু আপনি বিষয় টি জানতে পারবেন।

সেশ কথা

বন্ধুরা জে বিষয় নিয়ে কথা বললাম আপনি যদি এই বিষয় গুলো প্রপার ভাবে বুঝে শুনে চার্জার কিনতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার ফোনের জন্য অরিজানল চার্জার কিনে নিয়ে আসতে পারবেন। এই চার্জার হলো মোবাইলের খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সেন্সেটিভ জিনিস তাই যদি নকল চার্জার ব্যবহারে আপনার ফোনের ব্যাটারি ফুলে অথবা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই নতুন চার্জার কিনার আগে এই বিষয়ে গুলো মাথায় রাখবেন।

আজকের মতো আমি ফরিদুল আলি বিদায় নিচ্চি । দেখার হবে আবার নতুন কোনো টফিক নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন।

সাধারন প্রশ্ন উত্তর

ভালো মানের চার্জার কোনটি?

Anker, Ugreen, Baseus, Samsung এবং Xiaomi ব্র্যান্ডের চার্জারগুলো সবচেয়ে ভালো মানের 

কোন ধরনের ফোনে চার্জ সবচেয়ে বেশি থাকে?

 ৫০০০ থেকে ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার বা তার বেশি (mAh) ক্ষমতার ব্যাটারি এবং দক্ষ প্রসেসরযুক্ত স্মার্টফোনগুলোতে চার্জ সবচেয়ে বেশি সময় ধরে থাকে

২০২৬ সালে কোন মোবাইলে সবচেয়ে বেশি চার্জ থাকে?

বেশি চার্জ বা ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকার দিক থেকে শাওমি ১৭ ম্যাক্স (Xiaomi 17 Max) এবং বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ ফোন বেশ এগিয়ে রয়েছে


Faredul Ali

আমি একজন টেকনলজি প্রেমি। বিভিন্ন টেক ও অনলাইন ইনকাম সহ শিক্ষামূলক পোস্ট করে থাকি।


Share:

104 views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


খুজুন



বিভাগ