কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান – ভ্রমণ পরিকল্পনা, খরচ ও বিস্তারিত গাইড 2026

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজার হলো বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত সব থেকে জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান এর ভ্রমণ পরিকল্পনা, খরচ ও বিস্তারিত গাইড ২০২৬।

অপরুপ সৌন্দর্য্যের জন্যে খ্যাত এই কক্সবাজারজেলা, চিটাগং বা চট্রগ্রাম থেকে কক্সবাজার এর মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১৫২ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে কক্সবাজার এর দূরত্ব প্রায় 397 কিলোমিটারযদি চট্টগ্রাম – ঢাকা মহাসড়ক ও চিটাগাং – কক্সবাজার হাইওয়ে দিয়ে যান।

যা থাকছে এই পোস্টে

কক্সবাজার কেন ভ্রমণ করবেন?

বাংলাদেশে অবস্থিত কক্সবাজার কিন্তু শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয় বরং এটি একটি অপরুপ বিধির দেওয়া সৌন্দর্য নিদর্শন এর উদাহরণ । দুনিয়ার সব থেকে দীর্ঘতম বালু-কাময় সমুদ্র সৈকত হিসেবে কক্সবাজার এর পরিচিতি রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ব্যাপক।

সাগরের উত্তাল নীল জলরাশি এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিলে-মিশে আছে অসম্ভব সুন্দর সব পর্যটন কেন্দ্র।আবার শুধু মাত্র সমুদ্র সৈকত ই নয় বরং রয়েছে কক্সবাজার দর্শনীয় স্থানএর আশে পাশের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য। এর মধ্যে আছে পাহাড় পর্বত , নিল জলপ্রপাত, বৌদ্ধমন্দির, ও বিখ্যাত স্থান এগুলোর মাধ্যমে মনো-মুগ্ধ করে তোলে পর্যটকদের।

আপনি যদি একবার কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান গুলোতে ঘুরতে যান তবে সারাজীবন মনে থাকবে কেন না মহান আল্লাহ তায়ালা র সৃষ্টি আপনার মন ছুয়ে ই যাবে ইনশাআল্লাহ । তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান – ভ্রমণ পরিকল্পনা, খরচ ও এর বিস্তারিত ।

কক্সবাজারের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ।

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান গুলোর মাঝে অন্যতম মুল পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র হল বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজারের আয়তন প্রায় ১২০ কিলোমিটার । এটি পৃথিবীর একটি দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকা-ময় সমুদ্র সৈকত। বঙ্গোপসাগর এর কোল-ঘেঁষা এই সৈকত এর সূর্যাস্ত এবং শান্ত পরিবেশের জন্য বাংলাদেশ থেকে শুরু করে বিদেশের লাখ লাখ পর্যটকের কাছে খুব-ই জনপ্রিয় সমুদ সৈকত হিসেবে পরিচিত।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

কক্সবাজার কেন বিখ্যাত ?

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকা-ময় সমুদ্র সৈকত হলো কক্সবাজার এর কারনেই বিশ্বজুড়ে এত বিখ্যাত।

কক্সবাজার এর প্রধান আকর্ষণ :

  • নিরবচ্ছিন্ন : প্রায় ১২০ কিলোমিটার এর কোথাও কোনো বাঁক নেই, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সৈকতে হিসেবে পরিণত করেছে।
  • সূর্যাস্ত: কক্সবাজার এর সোনালী বালুকা এবং সৈকত থেকে সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় দেখার দারুণ মজা পাওয়া যায়।

কক্সবাজার কিভাবে যাবেন?

ঢাকা সহর শহর থেকে বাসে ৮-১০ ঘণ্টা, ট্রেনে ৮ ঘণ্টা ২০ মিনিট মতো সময় লাগতে পারে। যাতায়াতের মাধ্যমে হিসেবে রয়েছে বাস , ট্রেন । ঢাকার গাবতলি থেকে হানিফ , শ্যামলী, সেন্টমার্টিন, সৌদিয়া পরিবহন করে যেতে পারবেন। ভাড়া ১,২০০ থেকে শুরু করে ২,৫০০ টাকার মধ্যে।

কক্সবাজার খরচ কত হবে ?

প্রধান দর্শনীয় স্থান এবং বিনোদন স্পট গুলো ঘুরে দেখতে প্রতি জন ২,৫০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা টিকেট ও এন্ট্রি ফি বাবদ লাগতে পারে। আপনি যদি আরো কম খরচে ভ্রমন সারতে চান তবে আপনার জন্য বেস্ট হবে ওয়াটার পার্ক। এতে আপনার মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মত খরচ হবে।


ইনানী বিচ

কক্সবাজার মেইন শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিন দিকে রয়েছে ইনানি বিচ। রয়েছে তার প্রবাল পাথর , স্বচ্ছ পানি ও শান্ত পরিবেশ। এক পাশে আছে মেরিন ড্রাইভ রোড এবং পাহাড়, নীল সমুদ্র—এক কথায় অপরুপ একটি নিরিবিলি পর্যটন কেন্দ্র হলো ইনানী বিচ।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

ইনানী বিচ প্রবেশ টিকেট কত?

এই বিচ এ প্রবেশ এর জন্য কনো টাকা লাগে না বা আপনাকে কনো টিকেট কাটতে হয় না।

ইনানী বিচ কিভাবে জাবেন ?

কক্সবাজারের ইনানী বিচ যাওয়ার সহজ উপায়:

  • সিএনজি বা অটো রিকশা: সিএনজি বা ইজিবাইকে ইনানী যাওয়া-আসা যায়। সিজন ভেদে ভাড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা।
  • ওপেন জীপ বা কার: পরিবার সহ ঘুরতে গেলে খোলা জীপ বা চান্দের গাড়ি করে যেতে পারবেন। ভাড়া ১,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২,৫০০ টাকা লাগতে পারে।
  • মেরিন ড্রাইভ: চমৎকার এই রাস্তা ধরে কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ যাওয়ার সময় একদিকে পাহাড় এবং অন্যদিকে সমুদ্রের দৃশ্য দেখা যায় যা আপনাকে আকর্ষিত করে তুলবে।

লাবনী পয়েন্ট

লাবণী পয়েন্ট (Laboni point ) হলো কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান এর মাঝে অন্যতম সমুদ্র এর একটি অংশ। যদি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ঘুরতে আসেন তবে প্রথমে লাবনী পয়েন্ট থেকে শুরু হবে সমুদ্র সৈকত দেখা ।

লাবণী বিচ (laboni beach) কক্সবাজার শহরের খুবই নিকটে অবস্থিত। শহর থেকে কয়েক মিনিট পথ পায়ে হেঁটে গেলে লাবণী পয়েন্ট বা লাবণী বিচে যেতে পারবেন। এখানে খুব ভোরে ঘুরতে গেলে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, নৌকা বা সাম্পান দেখতে পাবেন।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

লাবনী পয়েন্ট কিভাবে জাবেন?

লাবণী বিচ যাওয়ার জন্য আপনাকে আগে কক্সবাজার শহরে যেতে হবে। এরপর ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বাস  গ্রীন লাইনশ্যামলী পরিবহন, সৌদিয়া পরিবহন, হানিফ পরিবহনসোহাগ পরিবহনসেন্টমার্টিন পরিবহন  সরাসরি ঢাকা টু কক্সবাজার যেতে হবে । বাস ভাড়া ১,০০০ টাকা থেকে ২,৫০০ টাকা লাগতে পারে।

লাবনী পয়েন্ট খরচ ?

বিচ অ্যাক্টিভিটি এর জন্য ৩০০টাকা থেকে ৫০০ টাকা আর চেয়ার ভাড়া বাবদ ৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা লাগতে পারেন।


আরও ভ্রমন গাইড পেতে দেখুনঃ ভ্রমন গাইড

প্রবাল দ্বীপ

সমুদ্রের নিচে থাকা লক্ষ লক্ষ প্রবাল নামের ছোট ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর কঙ্কাল এবং দেহবশেষ যুগের পর যুগ জমে তৈরি হওয়া দ্বীপ হলো প্রবাল দ্বীপ। আপনা আপনি তৈরি হওয়া এই দ্বীপ সমুহ সাধারণত চুনা পাথর সমৃদ্ধ হয়ে থাকে এবং চারপাশ এর থাকা স্বচ্ছ পানির সামুদ্রিক বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। এটি হল কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান এর মাঝে আরেকটি সুন্দর তম স্থান,

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

প্রবাল দ্বীপ কেন জনপ্রিয়?

মূলত সামুদ্রিক প্রবাল নামের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীবের দেহা বশেষ থেকে তৈরি হয়।

জনপ্রিয়তার প্রধান কারণগুলো :

  • স্বচ্ছ জল: দ্বীপের চারদিকের পানি সাধারণত কাঁচের মতো পরিস্কার ও নীল হয়, যা স্কুবা ডাইভিংকরার জন্য দারুণ ।
  • জীব বৈচিত্র্য: এই গুলো কে “সমুদ্রের রেইন ফরেস্ট” বলে । এখানে আছে হাজার হাজার রঙিন মাছ, ও কচ্ছপ।
  • নিরিবিলি পরিবেশ: আমরা যারা শহরে থাকি তাদের জন্য এই শান্ত ও নিরিবিলি কোলাহল মুক্ত পরিবেশ খুব মানান সই।
  • অ্যাডভেঞ্চার : নিল জলের নিচে প্রবাল দেখার এবং বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস পর্যটকদের আকর্ষণ করে থাকে।

কিভাবে প্রবাল দ্বীপ যাবেন ?

প্রবাল দ্বীপ যেতে হলে ঢাকার সায়েদাবাদ অথবা মহাখালি থেকে সরাসরি কম খরচে বাস করে যেতে পারেন।

হানিফ, শামলী বাংলা র মতো গাড়ি করে খুব সহজে প্রবাল দ্বীপ যেতে পারবেন।

বাস ভারা ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

প্রবাল দ্বীপ টিকেট মূল্যে কত?

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে (Saint Martin) প্রবেশে এর জন্য সরাসরি আলাদ করে কোনো নির্দিষ্ট প্রবেশ মূল্য বা ফি ২৫০০ নির্নেধারণ নেই।


আদিনাথ মন্দির

বাংলাদেশের বিখ্যাত ও সবথেকে বড় অন্যতম হিন্দু মন্দির। এটি কক্সবাজার মেইন শহর থেকে প্রায় ১২ কিমি: দূরে এই দ্বীপ । ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ঠাকুরতলা গ্রামে এই মন্দিরটি অবস্থিত,। হিন্দু সম্প্রদায়ের এক দেবতা দেবাদি দেব মহাদেবের নাম অনুসারে এ মন্দির নাম করন ও প্রতিষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান সমুহের মাঝে এই মন্দির টি খুবই আকর্ষণীয় কেন্দ্র স্থল।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

আদিনাথ মন্দির কেন বিখ্যাত ?

এই মন্দিরের বৈশিষ্ট্য ও বিখ্যাত হওয়ার কারণ হলো

  • ঐতিহ্য: হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ রামায়ণ অনুযায়ী ত্রেতাযুগে এই মন্দির হয়। দেবাদি দেব মহাদেব আদিনাথ রূপে এখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
  • অবস্থান: সমুদ্র থেকে প্রায় ২৮০ ফুট উঁচুতে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মন্দির।
  • মেলা: প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের শুরুতে মন্দির প্রাঙ্গণ জুরে ১৩ থেকে ১৫ দিন বিখ্যাত এই আদিনাথ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

আদিনাথ মন্দির কিভাবে যাবেন?

কক্সবাজার থেকে ১২ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত আদিনাথ মন্দির অনেক টা দুরে তাই আপনাকে কয়েটা ধাপে সেখানে যেতে হবে । প্রথমে কক্সবাজার থেকে সিএনজি অথবা অটোতে চরে ৬ নং জেটি ঘাট যেতে হবে তারপর স্পিডবোটে করে মহেশখালীর গোরক ঘাটা ঘাটে যেতে হবে। স্পিডবোটে ৮০ থেকে ৯০ টাকা লাগে। গোরকঘাটা ঘাট থেকে আদিনাথ মন্দির এ যেতে এবার অটোরিক্সা করে যেতে হবে ভাড়া লাগবে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা ।

আদিনাথ মন্দির টিকেট মূল্যে কত ?

আদিনাথ মন্দির এ প্রবেশ করতে কন প্রকার টাকা পয়সা লাগে না।


সুগন্ধা বিচ

কক্সবাজার এ যত সমুদ্র সৈকত আছে তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হলো সুগন্ধা সমুদ্র বিচ। সব সময় মানুষের আনাগোনা চেখে পড়ার মতো থাকে এখানে । কক্সবাজার শহরের খুব কাছে হওয়ার কারনে এখানে বেশি মানুষের উপস্থিতি থাকে সব সময় । কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান এ ঘুরতে গেলে আপনি অবশ্যই সুগন্ধা বিচ আসবেন। কেননা এখানকার পরিবেশ পর্যটন এর জন্য একদম পারফেক্ট।

এছাড়া সৈকতের পাশেই রয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মার্কেট। পর্যটকদের কাছে এই বিচটি অত্যান্ত পছন্দনীয়। সুগন্ধা সৈকতে রয়েছে সম্পূর্ণ সোনালি বালি, কোথাও কনো কাঁদা পাবেন না। আপনি আপনার প্রিয় জনের সাথে হাঁটার জন্য যেতে পারেন।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

সুগন্ধা বিচ কেন যাবেন?

কক্সবাজারের সুগন্ধা বিচ পর্যটক এর কাছে খুবই জনপ্রিয়। এর প্রধান কারণ

  • অবস্থান: কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের একেবারে কাছে অবস্থিত। শহরের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের জন্য সহজ হয় যাতায়াত।
  • পরিবেশ: এই বিচটিতে সব সময় একটি উৎসব মুখর পরিবেশ জমজমাট থাকে।
  • কেনাকাটা ও খাবার:: বিচের আশেপাশে রয়েছে দোকান, রেস্তোরাঁ ও ফুড স্টল। পর্যটকরা সাগরের গর্জন শোনার জন্য ।
  • সূর্যাস্ত: সোনালি বালুকা-ময় এই সৈকত থেকে সাগরের নীল জলপ্রপাত এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

সুগন্ধা বিচ কিভাবে যাবেন ?

ঢাকা হতে গ্রিন লাইন, সোহাগ , হানিফ অথবা সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়। ভাড়া লাগবে বাস যোগে ৯০০ টাকা থেকে ১,৩০০ টাকা

সুগন্ধা বিচে প্রবেশ ফিকত?

সুগন্ধাবিচ সবার জন্য উন্মুক্ত, এর জন্য বিনামূল্যে সাগরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় তবে, আপনি যদি রাইড ব্যাবহার করেন তবে রাইড অনুযায়ি মূল্য পরিষদ করতে হবে।

  • রাইড : জেট স্কি, বিচ বাইক, বা প্যারাগ্লাসিং জন্য প্রতি জন প্রায় ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা লাগে ।
  • চেয়ার ভাড়া: বিচে বসে থেকে সমুদ্র দেখার জন্য চেয়ার ভাড়া ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা লাগে।

কলাতলী বীচ

কলাতলী বীচ লাবণী বীচের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত পরিবেশ। এই সৈকতে রয়েছে ওয়াটার স্পোর্টস যেমন জেট স্কিইং (Jet Skiing), স্কুবা ডাইভিং ও স্নরকেলিং (Scuba Diving / Snorkeling) সহ সামুদ্রিক খাবারের অনেক সুবিধা রয়েছে। ঢাকা ও দেশের যেকোনো স্থান থেকে সরাসরি কক্সবাজার আসার পর যেকোনো রিকশাওয়ালা কে বললেই হবে আমি কলাতলী মোড়ে যাবো । আর কলাতলী থেকে আপনি কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য আপনার কাঙ্ক্ষিত বিচ গুলোতে যেতে পারবেন।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

কলাতলী বীচ কেন বিখ্যাত ?

কলাতলী বীচ বেশি বিখ্যাত কারন

  • মেরিন ড্রাইভ প্রবেশ : ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের শুরু হয় এই কলাতলী মোড় থেকে।
  • হোটেল ও রিসোর্টের: এই এলাকায় প্রায় ৫০০ টির ও বেশি বিলাস বহুল ও বাজেট বান্ধব হোটেল এবং রিসোর্ট রয়েছে।
  • ওয়াটার স্পোর্টস: সমুদ্রতে গোসল সহ জেট স্কি, বিচ বাইক, এবং প্যারাসেইলিংয়ের মতো বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থা আছে।
  • সানসেট পয়েন্ট: এখান-কার সোনালী বালুকা ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য পর্যটকদের প্রচুর সমাগম ঘটে থাকে ।

কলাতলী বীচ কিভাবে জাবেন?

ঢাকার সায়দাবাদ থেকে সরাসরি কক্সবাজারের বাস পাওয়া যায় । বাস আপনাকে সরাসরি কলাতলী মোড়ে নামিয়ে দিবে। বাসে ভাড়া ৯০০ থেকে ১,৩০০ টাকা (প্রতি সিট) লাগতে পারে ।

কলাতলী বীচ খরচ কত ?

প্যারাসেইলিং (Parasailing): আকাশে ওড়ার জন্য জন প্রতি ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা
জেট স্কি (Jet Ski): সমুদ্রের দ্রুত গতিতে ঘোরার বেড়ানোর জন্য প্রতি রাইড সময় ভেদে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা লাগে।
স্পিড বোট রাইড (Speed Boat): বিচের কাছে অল্প সময়ে রাইডের জন্য জন প্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা লাগে ।


সোনাদিয়া দ্বীপ

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত অপরূপ প্রাকৃতিক মনোরম সুন্দর একটি দ্বীপ। এটি কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান এর মাঝে অন্যতম । প্রায় ৯ কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপ । চুপচাপ নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত, এখানে দেখা মিলে সুন্দর লাল কাঁকড়ার , আর শীতের সময় পাখ পাখালির জন্য খুবই বিখ্যাত। এই দ্বীপটিতে আবাসিক হোটেল না থাকার কারনে ক্যাম্পিংয়ের জন্য এটি পর্যটকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় দ্বীপ।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

সোনাদিয়া দ্বীপ কেন বিখ্যাত?

সোনাদিয়া দ্বীপ এর আকর্ষণ হলো:

  • পাখির স্বর্গরাজ্য: যখন বেশি ঠান্ডা পরে তখন ঝাকে ঝাকে অতিথি পাখি আসে।
  • সামুদ্রিক জীব : এখানকার বালুকা-ময় সৈকতে দুর্লভ প্রজাতির লাল কাঁকড়া ও বিপন্ন প্রজাতির জলপাই কালারের সামুদ্রিক কাছিম দেখা যায়।
  • প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: তিন সাইড এ সমুদ্র আর এক দিকে সবুজ বন এর ফলে এই দ্বীপটি ক্যাম্পিং করার জনপ্রিয় একটি নির্জন স্থান।
  • শুঁটকি: সোনাদিয়া দ্বীপ বাংলাদেশের অন্যতম শুঁটকি উৎপাদন স্থল।

সোনাদিয়া দ্বীপ যাওয়ার উপায়?

সোনাদিয়া দ্বীপ এ স্পিডবোট বা ট্রলার যোগে সবচেয়ে দ্রুত ও সহজ উপায় জেতে পারেন ।

স্পিডবোটে যেতে ২০-৩০ মিনিট সময় লাগে ভাড়া ৬,০০ টাকা জনপ্রতি।

সোনাদিয়া দ্বীপ ক্যাম্পিং খরচ কত?

যদি নিজেদের তাবু থাকে তবে দ্বীপে স্থানীয় বন বিভাগ বা ক্যাম্পিং স্পট ব্যডি কাউন্বট হার বাবদ ফি (২০০-৫০০ টাকা) লাগতে পারে।


রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড

কক্সবাজার মেইন শহরের কাছেই অবস্থিত এই মেরিন অ্যাকুরিয়াম। এখানে কাঁচের টানেলের ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে বিভিন্ন প্রজাতির রং বে রঙের মাছ দেখতে পারবেন।

এখানে ঢুকলে আপনার মনে হবে যেন সাগরের তল দেশে আছেন। চারপাশে খেলা করে বর্ণিল প্রজাতির সব মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী। এছাড়া কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত করা রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ডে । এখানে রয়েছে থ্রি-নাইন ডি ছিনেমা দেখার নান্দ-নিক স্পেস ও লাইফ ফিশ সহ রেস্টুরেন্ট,।কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান এর মাঝে সবথেকে বিনোদন মূলক স্থান হল এটি।

দেশ-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখি, বাচ্চাদের খেলার জায়গা, ছবি তোলার জন্য আকর্ষণীয় ডিজিটাল কালার ল্যাব স্টুডিও , কেনাকাটা করার জন্য শপ এবং ছাদে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি বার-বি-কিউয় পার্টির আয়োজন করার ব্যবস্থা।

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড কিসের জন্য বিখ্যাত?

ঝাউতলায় অবস্থিত রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড (Radiant Fish World) হলো দেশের প্রথম ও একমাত্র আন্তর্জাতিক মানের মেরিন  ফিস অ্যাকুরিয়াম  এর জন্য বিখ্যাত?

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড এর বিশেষ আকর্ষণগুলোর

  • রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড আন্ডারওয়াটার টানেল : প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে কাচের ঘেরা আন্ডার ওয়াটার টানেল, টানেলের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় এমন মনে হবে আপনি সাগরের তলদেশে ঘুরতে গেছেন।
  • রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড বিশাল সামুদ্রিক জীব জগত : সাগরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ এখানে দেখতে পারবেন ।
  • রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড বিনোদন:শুধু মাছ দেখবেন তা নয় মাছ দেখার পাশাপাশি থ্রি-ডি (3D) ও নাইন-ডি (9D) মুভি দেখার থিয়েটার।
  • রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড ডক্টর ফিশ থেরাপি:অনেক তো গুরাঘুরি করলেন আর ভ্রমণের পর রিলাক্স করার জন্য রয়েছে ডক্টর ফিশ ফুড থেরাপি ও অটোমেটেড ম্যাসেজ চেয়ারের সুবিধা।

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড কীভাবে যাবেন?

কলাতলী বিচের সড়ক থেকে আপনি রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড এ যাবার জন্য যানবাহন সিএনজি/ইজিবাইক/অটোরিকশা পেয়ে যাবেন বলবেন আমি ঝাউতলা যাব। অথবা ইজিবাইক রিজার্ভ করলে ৬০-৭০ টাকার লাগতে পারে ।

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড এ খরচ কত হবে?

রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড এ প্রবেশ করার জন্য টিকিট ফি মূল্য ৩০০ টাকা জনপ্রতি । তবে ৫০ টাকা ডিকাউন্ট পেতে  অনলাইনে টিকিট বুকিং করতে হবে ।


হিমছড়ি

হিমছড়ির সবথেকে আকর্ষিক বিষয় হলো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে বিশাল সমুদ্র টিকে দেখা যায়। সব থেকে ভাল হয় আপনি যদি বর্ষাকালে হিমছড়ি যান। কেননা হিমছড়ির ঝর্ণা তার পূর্ণ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে বর্ষাকালে । এটি মূলত সবুজের চাদরে ঘেরা পাহাড়ের অপরূপ মিলন স্থল। কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান এর মাঝে এটিও একটি খুবই আকর্ষণীয় স্থান।

হিমছড়ির প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রা-কৃতিক ঝরনা আর ২৮০ ফুট উঁচু থেকে সাগরের দৃশ্য উপভোগ করা।

blank

হিমছড়ি কিসের জন্য বিখ্যাত?

  • হিমছড়ি পাহাড়ি ঝর্ণা : সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণা। যা বর্ষাকালে সব থেকে ভাল দেখা যায়।
  • হিমছড়ি পাহাড় চূড়া ও ভিউ পয়েন্ট : হিমছড়ি পাহাড় চূড়া ও ভিউ পয়েন্ট ওঠার জন্য সিঁড়ি রয়েছে যে সিঁড়ি সোজা আপনাকে নিয়ে যাবে পাহাড়ের চুড়ায় । চূড়া হতে নীল সমুদ্র ও সমুদ্র সৈকতের ভাঙা পাহাড় অথবা ‘Broken Hills’ এর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
  • হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান (Himchari National Park): ১৯৮০ সালে ১৭২৯ হেক্টর এলাকা জুড়ে এই পার্কটি প্রথমে করা হয়। এত বড় যে এখানে রয়েছে বন্য হাতি, মায়া হরিণ, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।
  • হিমছড়ি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: একদম পাহাড়ের চুরায় থেকে সূর্য উদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্য চমৎকার স্থান ভিউ পয়েন্ট।

হিমছড়ি কীভাবে যাবেন?

কক্সবাজার এলাকার কলাতলী পয়েন্ট অথবা সৈকত এলাকা হতে সহজেই খোলা জিপ গাড়ি (চাঁদের গাড়ি), সিএনজি, অটোরিকশা করে হিমছড়ি যাওয়া যায়।কলাতলী অথবা সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি তে জন প্রতি অনুমানিক ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে খরচ হতে পারে।

হিমছড়ি খরচ কত হবে ?

হিমছড়ি প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি টিকেট মূল্য ৪০ টাকা করে। অন্যান্য দেশের লোকের জন্য ১০০ টাকা ।

হিমছরি অনলাইন অগ্রিম টিকেট কাটার প্রয়জন নাই। সরাসরি মেইন গেইট থেকে টিকেট কাটতে পারবেন ।


কোথায় থাকবেন?

এখানে আপনার বাজেট ও পছন্দের অনুযায়ি অসংখ্য হোটেল এবং রিসোর্ট রয়েছে। সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি থাকতে চাইলে কলাতলীসুগন্ধা বিচ এলাকা সবচেয়ে সুবিধাজনক। বেশ কিছু হোটেল এর সম্ভব্য খরচ নিম্নে দেওয়া হল ।

বিলাসবহুল রিসোর্টখরচ হতে পারে ৬,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত।

মাঝারি মানের হোটেল খরচ হতে পারে ৩,০০০ টাকা থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত।

বাজেট হোটেল খরচ হতে পারে ১,০০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যক্তিগত পরামর্শ

কক্সবাজার দর্শনীয় স্থান গুলতে ঘুরতে গেলে, যাতায়াতের করছ কমাতে আপনি ট্রেন বা নন এসি বাস করে কক্সবাজার যেতে পারেন। আর থাকা জন্য কম টাকায় নিম্নে দেওয়া হোটেল গুলো বেছে নিতে পারেন।

  • হোটেল কল্লোল (Hotel Kollol)
  • উর্মি গেস্ট হাউজ (Urmi Guest House)
  • অভিসার (Hotel Abhisar)
  • ইকরা বিচ রিসোর্ট (Iqra Beach Resort)

এই হোটেল বুকিংয়ের জন্য AgodaAirbnb ব্যবহার করে রুমের ধরন ও কতো টাকা লাগবে তা খুব সহজেই যাচাই করতে পারবেন। এছাড়া আপনার যদি ছুটির দিন বা ওন সিজনে ভ্রমণের প্লান থাকে তবে আগে থেকেই রুম বুক করে নেওয়া উচিত হবে।


blank

Faredul Ali

আমি একজন টেকনলজি প্রেমি। বিভিন্ন টেক ও অনলাইন ইনকাম সহ শিক্ষামূলক পোস্ট করে থাকি।


Share:

51 views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



Category